https://www.somoyerdarpan.com/

3664

international

শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ইরান থেকে মার্কিন পাইলটকে ফিরিয়ে আনা হলো

প্রকাশিত : ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫০

ছবি:সংগৃহীত

এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের ‘দুঃসাহসিক’ অভিযানের বর্ণনা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ওই পাইলট কিছুটা আহত হয়েছেন। তবে অলৌকিকভাবে বেঁচে আছেন। ট্রাম্প রবিবার ঘোষণা করেন, একটি ‘দুঃসাহসিক’ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে নিখোঁজ এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্রে সজ্জিত’ ডজনখানেক বিমান পাঠিয়েছিল। শুক্রবার ইরান একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান দুই আসনের এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল ভূপাতিত করে। এতে একজন পাইলট ও একজন অস্ত্র ব্যবস্থা বিষয়ক কর্মকর্তা ছিলেন। অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হলেও পাইলট নিখোঁজ ছিলেন।

ট্রুথ সোশ্যালে এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প জানান, নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ওই পাইলটকে উদ্ধার করা হয়। তিনি লিখেছেন, ‘আমার নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাকে উদ্ধারের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্রে সজ্জিত ডজনখানেক বিমান পাঠায়। তিনি আহত হয়েছিলেন, তবে তিনি ঠিক হয়ে যাবেন।’অন্যদিকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শত শত বিশেষ অভিযান বাহিনীর সদস্য এই অভিযানে অংশ নেয়। তারা ইরানের ভেতরে প্রবেশ করে ওই বিমানচালককে উদ্ধার করে এবং তাকে দেশ থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্ধকারে শুরু হওয়া এই নাটকীয় অভিযান দিনের আলোতে শেষ হয়। তবে এটি পুরোপুরি পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি। অভিযানের সময় তীব্র গোলাগুলি হয়। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ওই বিমানচালককে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ট্রাম্প আরও জানান, শনিবার আরেকজন পাইলটকেও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় উদ্ধার অভিযানটি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে- এই আশঙ্কায় তা আগে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি লিখেছেন, ‘সামরিক ইতিহাসে এই প্রথমবার শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে পৃথকভাবে দু’জন মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা কখনোই কোনো মার্কিন যোদ্ধাকে ফেলে রাখি না! কোনো একজন মার্কিন সদস্য নিহত বা আহত ছাড়াই এই দুটি অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রমাণ করে যে আমরা ইরানের আকাশে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছি। এটি এমন একটি মুহূর্ত, যা নিয়ে সব আমেরিকানের গর্ব করা উচিত।’উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প জানান, তিনি একজন ‘অত্যন্ত সম্মানিত কর্নেল’ এবং বর্তমানে ‘সম্পূর্ণ নিরাপদ।’ তিনি আরও বলেন, এই সাহসী যোদ্ধা ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শত্রুদের পেছনে ছিলেন এবং শত্রুরা ক্রমশ তার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছিল। তবে তিনি কখনোই একা ছিলেন না। কারণ তার অবস্থান ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রাখা হচ্ছিল এবং তার উদ্ধারের পরিকল্পনা সতর্কভাবে করা হচ্ছিল।