https://www.somoyerdarpan.com/
3593
international
প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০২৬ ১২:৪৩
ছবি:সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের টানটান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধ থামাতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরান-এর কাছে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন।
আল জাজিরা ও দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংঘাত নিরসনে এই পরিকল্পনা ইরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।
প্রস্তাবের মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানকে তার তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত রাখা। পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এর বিপরীতে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রস্তাবটি পাকিস্তান-এর মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে এবং দেশটির সেনাপ্রধান সৈয়দ আসিম মুনির সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। উভয় পক্ষ রাজি হলে ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনার পথও খোলা থাকতে পারে।
অন্যদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, একটি সূত্র যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি দুই দেশই।
এ সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ইরান এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, কোনো সরাসরি আলোচনায় তারা অংশ নেয়নি।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখনো হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। বিমান হামলা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ১৫ দফা প্রস্তাব কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবায়ন নির্ভর করছে ইরানের সম্মতি, ইসরায়েল-এর অবস্থান এবং চলমান সামরিক পরিস্থিতির ওপর। তাই যুদ্ধের মাঝেই আলোচনা বাড়লেও সমাধান এখনো অনিশ্চিত।