https://www.somoyerdarpan.com/

3597

international

ভারতে প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যু’র অনুমতি পাওয়া হরিশ আর নেই

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫১

১৩ বছরের বেশি সময় ধরে কোমায় থাকার পর ভারতের প্রথম ‘প্যাসিভ ইউথানেসিয়া’ বা ‘পরোক্ষ মৃত্যু’র অনুমতি পাওয়া হরিশ রানা মারা গেছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়েছে। তার বাবা-মায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর মৃত্যুবরণ করলেন হরিশ। এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি।

এতে বলা হয়, ৩১ বছর বয়সী হরিশকে ইউথানেসিয়া প্রক্রিয়ার জন্য গত ১৪ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এর দুদিন পর তার লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের কাজ শুরু হয়। প্রক্রিয়া শুরুর ১১ দিনের মাথায় রানা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তার পরিবার তার দুটি কর্নিয়া এবং হার্ট ভালভসহ গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু ও অঙ্গ দান করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

১৩ বছরের কোমা: ২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন একটি পেয়িং গেস্ট আবাসের চার তলা থেকে পড়ে গিয়ে ভেজিটেটিভ স্টেটে চলে গিয়েছিলেন রানা। সেই দুর্ঘটনায় তার মস্তিষ্কে গুরুতর চোট লাগে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও সেই চোট তাকে কোমায় ঠেলে দেয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য তার ট্র্যাকিওস্টোমি টিউব এবং খাবারের জন্য গ্যাস্ট্রোজেজুনোস্টোমি টিউব লাগানো ছিল। বছরের পর বছর কেটে গেলেও সুস্থ হওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে আসায় তার বাবা-মা শেষ পর্যন্ত প্যাসিভ ইউথানেসিয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।

ঐতিহাসিক রায়: গত ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট রানাকে ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’ প্রদান করে এবং দেশের প্রথম প্যাসিভ ইউথানেসিয়ার অনুমতি দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, গত ১৩ বছরে তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি এবং যখন রোগীর সেরে ওঠার আশা থাকে না, তখন তাকে চিকিৎসা দেয়া চিকিৎসকের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে না। শীর্ষ আদালত সরকারকে প্যাসিভ ইউথানেসিয়া নিয়ে আইন করারও আহ্বান জানিয়েছে।

মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যু: ঐতিহাসিক রায়ের তিন দিন পর রানাকে গাজিয়াবাদের বাড়ি থেকে এইমসের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, রানার মর্যাদা বজায় রেখে একটি সুপরিকল্পিত উপায়ে চিকিৎসা প্রত্যাহার করতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল গঠন করা হয়, যারা রানার কৃত্রিম পুষ্টি এবং অন্যান্য লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করেন।
অ্যানাস্থেসিয়া ও প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডঃ সীমা মিশ্রের নেতৃত্বে এই দলে নিউরোসার্জারি, অনকো-অ্যানাস্থেসিয়া এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন। তাদের পর্যবেক্ষণে ভারতের প্রথম প্যাসিভ ইউথানেসিয়া সম্পন্ন হয়। ৩১ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন হরিশ রানা।

ভারতে প্যাসিভ ইউথানেসিয়া: এক দশকেরও বেশি সময় আগে অরুণা শানবাগ বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া মামলায় ভারতে প্যাসিভ ইউথানেসিয়া বৈধ করা হয়েছিল। সেই সময় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে চার দশক ধরে ভেজিটেটিভ স্টেটে থাকা নার্স অরুণা শানবাগের ইউথানেসিয়ার আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছিল, কারণ হাসপাতালের কর্মীরা তাকে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। শানবাগ ২০১৫ সালে নিউমোনিয়ায় মারা যান।