https://www.somoyerdarpan.com/

3579

international

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ইস্যুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা, ইসলামাবাদে হতে পারে শান্তি বৈঠক

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৪:০১

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মাঝে এক কঠিন কূটনৈতিক পথ পাড়ি দিচ্ছে পাকিস্তান। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এবং তার দুই প্রধান শত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি স্থাপনে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। এতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে তেহরানের সুসম্পর্ক এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসলামাবাদের উষ্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগানো হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত ইসলামাবাদ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ইরানে হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি এবং ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকের জন্য ইসলামাবাদকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করেছে পাকিস্তান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির গত রোববার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। শরিফ ও পেজেশকিয়ানের এই আলোচনার সময়ই ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে খুব ভালো এবং ফলপ্রসূ আলোচনার পর তিনি হামলার হুমকি স্থগিত করেছেন। তবে ইরান এই আলোচনার দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। যদিও তেহরান স্বীকার করেছে যে কিছু আঞ্চলিক দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনাকে বলেন, বিগত কয়েক দিনে কিছু বন্ধু রাষ্ট্রের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার জন্য আমেরিকার অনুরোধ সংবলিত বার্তা পাওয়া গেছে। আমরা আমাদের মৌলিক অবস্থানের ভিত্তিতে সেগুলোর উপযুক্ত জবাব দিয়েছি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি বা যুদ্ধ বন্ধের শর্তাবলি নিয়ে ইরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ একে ভুয়া খবর বলে অভিহিত করে দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে চোরাবালিতে আটকে গেছে তা থেকে বাঁচতেই এসব বাজার গরম করা খবর ছড়ানো হচ্ছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের মতে, পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ট্রাম্পের দূত উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এবং তেহরানের মধ্যে নেপথ্য আলোচনা (ব্যাক-চ্যানেল) চালিয়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধের শুরু থেকেই শেহবাজ শরিফ একাধিকবার পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন। গত সপ্তাহে রিয়াদে আরব দেশগুলোর এক বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও মধ্যস্থতার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

পাকিস্তানে কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নেই এবং প্রতিবেশী দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা এখন পর্যন্ত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়নি। এই নিরপেক্ষ অবস্থানই পাকিস্তানকে একজন গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এছাড়া ইরানের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকার ফলে আরব দেশগুলোর কাছেও পাকিস্তানের গুরুত্ব রয়েছে। এমনকি ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি গত সপ্তাহে নতুন বছর উপলক্ষে দেয়া বার্তায় পাকিস্তানি জনগণের প্রতি তার ‘বিশেষ অনুরাগের’ কথা উল্লেখ করেছেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, সরাসরি আলোচনা না হলেও মিশর, কাতার এবং উপসাগরীয় দেশগুলো বার্তা আদান-প্রদান করছে। তুরস্কও ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে যাতে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা যায়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকার করে বলেন, এগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর কূটনৈতিক আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আলোচনা করতে চায় না।

যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও বিশ্লেষকরা এর সাফল্যের বিষয়ে সন্দিহান। থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউসের সানাম ওয়াকিল বলেন, অনেক দেশ উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে ঠিকই, কিন্তু এর মানে এই নয় যে যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে। তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপের মুখে ট্রাম্প হয়তো পিছু হটেছেন, কারণ ইরান হুমকি দিয়েছে তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা হলে তারা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি শোধনাগারগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে। তিনি মনে করেন, কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত আপস করার মানসিকতা দেখাচ্ছে না এবং ট্রাম্প নিজের তৈরি করা এই সংকট থেকে সহজে বের হতে পারবেন না।