https://www.somoyerdarpan.com/

3837

sports

প্রথম টি-টোয়েন্টি দুপুর ২টায়, অচেনা কিউইদের বিপক্ষে আগ্রাসী বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৫০

ছবি:সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৪৬ দিনের বিরতি শেষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আজ অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি। খেলা শুরু হবে দুপুর ২টায়। নিয়মিত তারকাদের ছাড়া খেলতে এসেছে সফরকারী কিউইরা। ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ চলায় প্রথম সারির অনেক ক্রিকেটার নেই । স্কোয়াডে শুধু ইশ সোধি আছেন বিশ্বকাপ দল থেকে। এমন অচেনা দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। টানা পাঁচটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতেছিল তারা। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিষেধাজ্ঞায় বিশ্বকাপ খেলা হয়নি তাদের। এবার নতুন করে শুরুর পালা। আসন্ন সিরিজের লক্ষ্য নিয়ে গতকাল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। তিনি প্রতিপক্ষকে বেশ সমীহ করছেন। লিটন বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড বিশ্ব ক্রিকেটে বড় নাম। তাদের রেকর্ড সবসময় ভালো। এই ফরম্যাটে দুজন ব্যাটার বা বোলার ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই আমরা নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলার জোর চেষ্টা করবো।’ প্রথম ম্যাচে জয়ের জন্য মুখিয়ে আছে পুরো স্বাগতিক শিবির। এই ম্যাচ দিয়ে আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করতে চায় দলের সবাই। নতুন এই চক্রে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে জয়টা খুবই জরুরি বলে মনে করছেন দলের সকল সদস্য। দারুণ কিছু দেখার অপেক্ষায় দেশের অগণিত ক্রিকেট সমর্থকরা।

লিটন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কৌশল বেছে নিয়েছেন। দ্রুত রান তুলতে গিয়ে শুরুতে উইকেট হারানোর ঝুঁকি থাকলেও দলটি পিছু হঁটতে রাজি নয়। অধিনায়ক মনে করেন, আক্রমণাত্মক মানসিকতা বজায় রাখতে নিচের সারির ব্যাটারদের অবদান অপরিহার্য। স্পিনারদের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে ভীষণ আশাবাদী তিনি। লিটনের মতে, ‘অ্যাটাকিং ক্রিকেট খেলতে গেলে আপনার কয়েকটা উইকেট আর্লি পড়বেই। আমাদের বিশেষ করে শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন যারা স্পিন বল করে, তাদের কাছ থেকে আমরা একটু ব্যাটিং আশা করি।’ দলের ব্যাটিং গভীরতা নিয়ে সন্তুষ্ট তিনি। দলে ছয়জন জেনুইন ব্যাটারের পাশাপাশি বোলিং অলরাউন্ডাররাও আছেন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও তানজিম হাসান সাকিব এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য। নতুন মুখ আবদুল গাফফার সাকলাইনের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও কথা বলেন তিনি। লিটনের চোখে সাকলাইন একজন অলরাউন্ডার। সদ্য সমাপ্ত বিপিএল লীগ টুর্নামেন্টে রাজশাহী দলের হয়ে দারুণ খেলেছেন এই তরুণ। তাকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে দলের সাথে রাখা হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স নজরে পড়ার মতো। বোলাররা উইকেটে দাঁড়িয়ে গেলে টপ অর্ডারের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। এতে ব্যাটাররা স্বাধীনভাবে শট খেলার আত্মবিশ্বাস পান। একটি সম্পূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে মাঠে নামার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন লিটন।

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড দল গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ হেরেছে। নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার সহ সাতজন শীর্ষ খেলোয়াড় এই সফরে নেই। তাদের ব্যাটিং লাইনআপে কেবল টম ল্যাথামের কিছুটা অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাকিরা প্রায় সবাই একেবারেই নতুন মুখ। তবে ডিন ফক্সক্রফট, নিক কেলি এবং নাথান স্মিথ সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজে ভালো করেছেন। বিশেষ করে ফক্সক্রফট তৃতীয় ম্যাচে সাতটি ছক্কা হাঁকিয়ে পঁচাত্তর রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছিলেন। চট্টগ্রামের পরিচিত কন্ডিশনে তিনি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন। এছাড়া কাটেনে ক্লার্কেরও সুপার স্ম্যাশে সফল মৌসুম কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিউই কোচ রব ওয়াল্টার্স এই অনভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইনআপকে কীভাবে সাজান, সেটি দেখার বিষয়। অন্যদিকে, স্বাগতিকদের বোলিং আক্রমণেও নতুনত্বের ছোঁয়া রয়েছে। শরিফুল ইসলাম দলের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন। তার সাথে আছেন সাইফউদ্দিন ও তানজিম। শামীম হোসেন দীর্ঘ দুই মাস পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরছেন। পারভেজ হোসেন ইনজুরি কাটিয়ে দলে জায়গা পেয়েছেন। তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটিং ধরন নিয়ে ওয়ানডেতে কিছু প্রশ্ন উঠলেও তিনি সামলে নিয়েছেন। স্পিন বিভাগে মেহেদী ও রিশাদকে বড় দায়িত্ব পালন করতে হবে।

চট্টগ্রামের এই মাঠে টি-টোয়েন্টিতে প্রথমে ব্যাট করা দলের গড় রান ১৬৩। ফ্ল্যাট উইকেটের কারণে এখানে বড় স্কোর দেখা যায়। বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। অতীত পরিসংখ্যান বলছে, এখানকার পাঁচটি দিনের ম্যাচের চারটিতেই জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। এদিকে অধিনায়কের নিজের ফর্ম স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ আড়াই বছর পর তৃতীয় ওয়ানডেতে ছিয়াত্তর রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি। তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানও ছন্দে রয়েছেন। নিজের কিপিং নিয়েও দারুণ আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক। তিন ফরম্যাটে কিপিং করার কারণে তার ধারণা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট।