https://www.somoyerdarpan.com/
3801
international
প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৮
ছবি:সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি যখন চলছে তখন হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নিতে রাজি ছিলো ইরান। তারা অবরোধ তুলেও নিয়েছিলো। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জাহাজগুলোর উপর তার নৌ-অবরোধ জারি রাখেন। ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনা প্রশমনে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেয়া যুদ্ধবিরতি এখন সুতোয় ঝুলছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত তেহরান ত্যাগ করতে বলেছে। উভয় দেশ যুদ্ধবিরতির আড়ালে শক্তি সঞ্চার করছে। মধ্যপ্রাচে সেনা ও অস্ত্রের পরিমান বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রনকৌশলে পরিবর্র্তন আনা সহ যুদ্ধের নানাবিধ প্রস্তুতি দৃশ্যমান প্রকটভাবে। তেহরানের ওপর ডনাল্ড ট্রাম্পের নৌ-অবরোধ বা ব্লকেডকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা এখন কার্যত অন্ধগলিতে। একদিকে চলছে আলোচনার টেবিলে বসার তোড়জোড়, অন্যদিকে পারস্য উপসাগরে বইছে যুদ্ধের উত্তপ্ত হাওয়া। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দাদাগিরির কাছে মাথা নত করবে না তারা। ২টি জাহাজ আটক করাকে যুদ্ধের সামিল বলেছেন ইরানিরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়দেশ একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।
হার মানবে না তেহরান: কড়া হুঁশিয়ারি গালিবাফ ও পেজেশকিয়ানের
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বুধবার এক হুংকারে বলেছেন, ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকলে কোনোভাবেই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, সমুদ্রপথ বন্ধ রেখে আর বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করে কোনো শান্তি আসতে পারে না। ইসরাইলের যুদ্ধবাজ নীতি না থামালে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই সুরে সুর মিলিয়েছেন। তিনি বলেন, শান্তি চাইলে কূটনীতি দরকার, চাপ নয়। বিশ্ব দেখছে মার্কিনদের ভণ্ডামি। তারা মুখে বলে এক, কাজে করে তার উল্টো।
ট্রাম্পের তুরুপের তাস ‘অবরোধ’
এদিকে হোয়াইট হাউস থেকে আসছে ভিন্ন বার্তা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে এই অবরোধ তিনি এখনই তুলছেন না। ট্রাম্প বলেন, ইরান এখনই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চায়। কিন্তু অবরোধ না থাকলে তাদের সঙ্গে ডিল হবে না। হোয়াইট হাউস মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি এখন খাদের কিনারে এবং সব তাস এখন ট্রাম্পের হাতে।
এর শেষ কোথায়
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আপাতত বড় ধরনের হামলা বন্ধ থাকলেও, যে কোনো মুহূর্তে এই ‘শান্তির বেলুন’ ফুটে যেতে পারে বলে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। উভয় পক্ষ বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় যুদ্ধের মোড় কোন দিকে যাবে তা নিয়ে চরম দিন কাটছে বিশ্ববাসীর। এরই মাঝে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। আলোচনা থমকে থাকায় এর শেষ কোথায় তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় কাটছে না।