https://www.somoyerdarpan.com/
3851
bangladesh
প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৩
ছবি:সংগৃহীত
পাবনার ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে। এই বিশেষ মুহূর্তটিকে কেন্দ্র করে পুরো ঈশ্বরদী ও প্রকল্প এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর অভিজাত তালিকায় ৩৩তম সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি ভরার কাজ শুরু হবে। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রকল্প এলাকায় বিশাল প্যান্ডেল ও বর্ণিল সাজসজ্জা করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’-এর প্রধান আলেক্সেই লিখাচভ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রসি।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে জ্বালানি স্থাপন হলো বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। চুল্লিপাত্রে ইউরেনিয়াম রাখার পর সেখান থেকে যে তাপ তৈরি হবে, তা দিয়ে পানি ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হবে। সেই বাষ্পের শক্তিতে বিদ্যুৎ তৈরির যন্ত্র বা টারবাইন ঘোরানোর মাধ্যমেই আসবে কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ। প্রথম ইউনিটে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের শুরু হচ্ছে।
দেশের ইতিহাসে একক বৃহত্তম বিনিয়োগের এই প্রকল্পটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করছে পরমাণু শক্তি কমিশন। রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট’ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে।
এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়া থেকে জ্বালানির প্রথম চালান বিশেষ নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছায়। অক্টোবর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি সনদ হস্তান্তরের মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তির দেশের মর্যাদা লাভ করে বাংলাদেশ। সেই শক্তির বাস্তব ব্যবহারের পথে বড় এক ধাপ পার করছে দেশ।
রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছিল ১৯৬১ সালে। তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের অবহেলায় প্রকল্পটি থমকে যায়। মাঝপথে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ১৯৯৫ সালে জাতীয় জ্বালানি নীতিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ২০১১ সালে রাশিয়ার সাথে সহযোগিতা চুক্তি এবং ২০১৫ সালে চূড়ান্ত নির্মাণ চুক্তি হয়।
ঐতিহাসিক এই মুহূর্তকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। সলিমপুর ইউনিয়নের বখতারপুর গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী বাদশা বলেন, অনেক বছরের অপেক্ষার পর জ্বালানি ভরা শুরু হচ্ছে। এটি কেবল বিদ্যুৎ নয়, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে বড় পরিবর্তন আনবে। ঈশ্বরদীবাসীর জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের দিন।
রূপপুর গ্রামের আলম এহসানের কণ্ঠেও একই সুর। তিনি বলেন, দাদার সময় থেকে শুনে আসছি এখানে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে। সেই স্বপ্ন এখন সত্যি হলো। আমাদের জন্য এর চেয়ে বড় আনন্দের খবর আর নেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবলু ফকিরের আশা, প্রকল্পটি চালু হলে এলাকার অর্থনীতি চাঙা হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আজমাঈন ইসলাম মনে করেন, এই কেন্দ্রটি বাংলাদেশের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এক বড় প্রতীক। সবার প্রত্যাশা, অত্যন্ত নিরাপদ ও সফলভাবেই যাত্রা শুরু করবে দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।