https://www.somoyerdarpan.com/

3838

international

চাম্পা বে থেকে মানবদেহের অংশ উদ্ধার, নিখোঁজ বৃষ্টির হতে পারে

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৪২

ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের চাম্পা বে এলাকায় পানি চলাচলের একটি পথ থেকে মানবদেহের একটি টুকরা উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে এই খণ্ডটি ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ডক্টরাল ছাত্রী বাংলাদেশি নাহিদা বৃষ্টির। তবে এ বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। এই টুকরোটি উদ্ধারের পর এটা বৃষ্টির দেহের অংশ কিনা তা মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিবিএস নিউজ।

এতে বলা হয় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, উদ্ধার করা দেহাবশেষ পাওয়া গেছে পিনেলাস কাউন্টিতে, ইন্টারস্টেট ২৭৫ ও ৪র্থ স্ট্রিট নর্থ এলাকার কাছে। জায়গাটি হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের সেন্ট পিটার্সবার্গ অংশের কাছাকাছি।

উল্লেখ্য, নিখোঁজ ২৭ বছর বয়সী নাহিদা বৃষ্টি এবং একই বয়সী জামিল লিমন দু’জনই গত সপ্তাহে নিখোঁজ হন। পরে শুক্রবার টাম্পার কাছে একটি সেতু থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিহকে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুইটি প্রথম ডিগ্রি পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে জামিনবিহীন আটক রাখা হয়েছে। রোববার প্রকাশিত আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের আগে সন্দেহভাজন ব্যক্তি নাকি চ্যাটজিপিটিকে মৃতদেহ গোপন বা নিষ্পত্তি করার উপায় সম্পর্কে প্রশ্ন করেন।

নথি অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল তিনি চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেন- ‘কাউকে কালো প্লাস্টিক ব্যাগে রেখে ডাম্পস্টারে ফেললে কী হয়?’ চ্যাটবট এটি বিপজ্জনক বলে সতর্ক করলে তিনি আবার জানতে চান, ‘তারা কীভাবে জানতে পারবে?’ ১৫ এপ্রিল তিনি আবার প্রশ্ন করেন- ‘গাড়ির ভিআইএননম্বর কি বদলানো যায়?’ এবং ‘লাইসেন্স ছাড়া বাড়িতে বন্দুক রাখা যায় কি না?’

১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘হিলসবোরো রিভার স্টেট পার্কে কি গাড়ি চেক করা হয়?’ আদালত নথি অনুযায়ী, সন্দেহভাজনের ফোন সেই রাতেই হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় অবস্থান করছিল। সেখানে পরে লিমনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। লিমনের দেহ কালো ব্যাগে মোড়ানো ও পচন ধরা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে একাধিক ছুরিকাঘাত ও গুরুতর আঘাতের কারণে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে নিশ্চিত করা হয়।

প্রসিকিউটররা মনে করছেন, নিখোঁজ হওয়া নাহিদা বৃষ্টির সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তদন্তে জানা গেছে, সন্দেহভাজন ও লিমন যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন সেখানে প্রবেশপথ থেকে রান্নাঘর, করিডোর এবং শোবার ঘর পর্যন্ত রক্তের স্পষ্ট দাগ পাওয়া গেছে। শোবার ঘরে মানুষের আকৃতির মতো রক্তের দুইটি পৃথক প্যাটার্নও পাওয়া যায়। সন্দেহভাজন হিশাম আবুগারবিহ একজন পাবলিক ডিফেন্ডারের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পাচ্ছেন। তিনি মঙ্গলবার আদালতে আবার হাজির হবেন।

এদিকে উদ্ধার হওয়া নতুন দেহাবশেষ এখনও শনাক্ত করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে, ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে সেটি নিখোঁজ ডক্টরাল ছাত্রী বৃষ্টির কিনা।