https://www.somoyerdarpan.com/

3758

international

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আবারও সংঘাতে, শান্তি সংলাপে তেহরানের ‘না’

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৩

ছবি:সংগৃহীত

শান্তি আলোচনা নিয়ে তোড়জোরের মধ্যেই নতুন করে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ। পাল্টাপাল্টি হামলায় আবার তেঁতে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। যেকোন মূল্যে এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায় ইরান। এ জন্য সেখানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকার প্রেক্ষিতে আবারও ওই প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। তারা এরই মধ্যে কয়েকটি জাহাজে গুলি করেছে। অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনী ওমান উপসাগরে একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজে গুলি চালিয়েছে। এরপর তা জব্দ করেছে। হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের অংশ হিসেবে এটিই প্রথম জাহাজ জব্দের ঘটনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানান, ‘তৌসকা’ নামের জাহাজটি থামার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় মার্কিন বাহিনী সেটি জব্দ করে। ফলে আবার নতুন করে দুই পক্ষের লড়াই শুরু হয়েছে। এতে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে এক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা এই সংলাপে অংশ নেবে না। তবে পাকিস্তান এই সংলাপের জন্য প্রস্তুতি পুরোদমে নিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

ইরান বলেছে, এই হামলা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং এটি সশস্ত্র জলদস্যুতা। এর প্রতিশোধ তারা শিগগিরই নেবে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়ান্স উত্তর আরব সাগর দিয়ে ইরানের বান্দার আব্বাসগামী তৌসকা নামের জাহাজটিকে থামায়। এক্সে দেয়া পোস্টে তারা জানায়, মার্কিন বাহিনী বারবার সতর্কবার্তা দেয় এবং জানায় যে জাহাজটি মার্কিন অবরোধ ভঙ্গ করছে। তারা বলে, ছয় ঘণ্টা ধরে বারবার সতর্কবার্তা দেয়ার পরও তৌসকার ক্রুরা সাড়া না দিলে স্প্রুয়ান্স জাহাজটির ইঞ্জিন রুম খালি করার নির্দেশ দেয়। এরপর ডেস্ট্রয়ারটির ৫ ইঞ্চি এমকে-৪৫ কামান থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে জাহাজটির চলাচল অক্ষম করে দেয়া হয়। পরে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের মার্কিন মেরিনরা জাহাজটিতে উঠে সেটি তা তাদের দখলে নেয়, যা এখনো মার্কিন হেফাজতে রয়েছে। সেন্টকম অভিযানের একটি ভিডিও-ও শেয়ার করেছে। সেখানে ইউএসএস স্প্রুয়ান্সকে তৌসকাকে থামতে সতর্ক করার পর গুলি চালাতে দেখা যায়।

পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ইরানি পতাকাবাহী এই কার্গো জাহাজটি প্রায় ৯০০ ফুট লম্বা এবং প্রায় একটি বিমানবাহী রণতরীর সমান ওজনের। যা নৌ অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তা তাদের জন্য ভালো হয়নি। ট্রাম্প বলেন, জাহাজটিকে থামার ন্যায্য সতর্কতা দেয়া হয়েছিল, যা উপেক্ষা করা হয়। তাই আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজ তাদের থামিয়ে দেয়, ইঞ্জিন রুমে গুলি করে বড় ছিদ্র করে।
তিনি আরও জানান, তৌসকা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার আওতায়। কারণ এর অতীতের অবৈধ কর্মকাণ্ডের ইতিহাস আছে। জাহাজটি এখন পুরোপুরি আমাদের হেফাজতে, এবং এতে কী রয়েছে তা আমরা পরীক্ষা করছি।

সপ্তাহান্তে জাহাজ চলাচল নিয়ে বিভ্রান্তির পর সোমবারও এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ ছিল। তেহরান প্রথমে বলে, জাহাজ চলাচল চালু থাকবে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে প্রায় সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এদিকে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, তেহরান দ্রুত কোনো চুক্তিতে না এলে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেয়া হবে। তবে ট্রাম্প যে শর্তগুলোর কথা বলেছেন, যেমন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর, সেগুলো মানতে রাজি হয়নি বলে জানিয়েছে ইরান।