https://www.somoyerdarpan.com/
3601
bangladesh
প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০২৬ ১০:২০
ছবি:সংগৃহীত
বাঙালির ইতিহাসে ২৬ মার্চ কেবল একটি দিন নয়—এটি স্বাধীনতার সূচনা, আত্মমর্যাদার জাগরণ এবং ত্যাগের এক অনন্য দলিল। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় জেগে উঠেছিল সমগ্র বাংলা। দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে এসেছিল এ দেশের সাহসী সন্তানেরা।
সেদিন তরুণ-যুবকরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এক অসম যুদ্ধে, শুধু একটি পতাকা আর একটি স্বাধীন মানচিত্রের জন্য। তাদের আত্মত্যাগ, সাহস আর অদম্য চেতনার ফলেই আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক।আজকের এই মুক্ত বাতাস, স্বাধীনতার স্বাদ—সবকিছুর পেছনে লুকিয়ে আছে সেইসব বীর শহীদদের অমূল্য অবদান। তাই ২৬ মার্চ এলেই গভীর শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করি তাদের, যাদের রক্তে রাঙানো এই বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি। ????????
ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার বীজ (১৯৪৭–১৯৫২)
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়, যার পূর্বাংশ ছিল পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)। কিন্তু শুরু থেকেই বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হয় এ অঞ্চলের মানুষ।১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল প্রথম বড় প্রতিবাদ, যেখানে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন দেন সালাম, বরকত, রফিকসহ অনেকে। এখান থেকেই স্বাধীনতার বীজ বপন হয়।
স্বাধিকার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান (১৯৬০-এর দশক)
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন, যা ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ।১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে। এতে বাঙালির আত্মপরিচয় ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম আরও জোরদার হয়।
১৯৭০ সালের নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংকট:
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী। এতে দেশজুড়ে উত্তেজনা ও অসন্তোষ বাড়তে থাকে।
৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ:
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণ দেন—
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
এই ভাষণ বাঙালিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করে তোলে।
২৫ মার্চের কালরাত্রি:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ চালিয়ে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করে। ঢাকাসহ সারা দেশে হত্যা, লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।
২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা:
২৫ মার্চের সেই ভয়াল রাতের পর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয় (১৯৭১)
দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং ২ লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
২৬ মার্চ শুধুমাত্র একটি দিবস নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক। এই দিনে আমরা স্মরণ করি সেইসব বীর শহীদদের, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।