https://www.somoyerdarpan.com/

3527

international

যুক্তরাষ্ট্রের সেনা আটকের দাবি ইরানের, অভিযোগ অস্বীকার ওয়াশিংটনের

প্রকাশিত : ০৮ মার্চ ২০২৬ ১৪:৫৪

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি দাবি করেছেন, গত সপ্তাহে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সেনাকে আটক করেছে তার দেশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দ্রুতই এ দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে নাকচ করেছে।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় লারিজানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এসব আটক সেনার বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করছে।

তিনি লিখেছেন, ‘আমার কাছে খবর এসেছে যে কয়েকজন মার্কিন সেনাকে বন্দি করা হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে তারা যুদ্ধে নিহত হয়েছে। সত্যকে তারা বেশি দিন লুকিয়ে রাখতে পারবে না।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, ‘ইরানের সরকার মিথ্যা প্রচার ও মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এটি তারই আরেকটি উদাহরণ।’

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ডের এক মুখপাত্রও একই বক্তব্য দিয়ে বলেন, মার্কিন সেনা আটক করার ইরানের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে “অপারেশন এপিক ফিউরি”।

ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, গত সপ্তাহ থেকে চলা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে প্রায় ১৮০ জন শিশু রয়েছে, যারা দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলার ঘটনায় মারা গেছে।

একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওই স্কুলে হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী চালিয়েছিল। তবে ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ দায় ইরানের ওপর চাপিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু দেখেছি, এটি ইরানই করেছে।’

শনিবার ট্রাম্প দক্ষিণ ফ্লোরিডায় নিজের অবকাশকেন্দ্র এবং ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটির মধ্যে যাতায়াত করেন। ওই বিমানঘাঁটিতে নিহত মার্কিন সেনাদের মরদেহ আনা হয়েছিল।

১ মার্চ, যুদ্ধ শুরুর একদিন পর কুয়েতের একটি বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় ওই ছয় সেনা নিহত হন। নিহতদের নাম ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর ট্রাম্প বলেন, ‘আজ খুবই দুঃখের দিন। আমরা তাদের প্রতি সম্মান জানিয়েছি। পরিস্থিতি কঠিন।’

তবে যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে তিনি আশাবাদী সুরেই কথা বলেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ‘আমরা বড় ব্যবধানে যুদ্ধ জিতছি। তাদের পুরো দুষ্ট সাম্রাজ্য আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি।’

তবে তিনি এখনো স্পষ্ট করে বলেননি, ইরানে সরাসরি মার্কিন সেনা পাঠানো হবে কি না। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘অনেক প্রেসিডেন্ট বলেন, স্থলবাহিনী পাঠানো হবে না। কিন্তু আমি এমন প্রতিশ্রুতি দিই না।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধে মার্কিন নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ট্রাম্প এক ফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘যুদ্ধে হতাহতের ঘটনা ঘটবে, সেটি আমরা জানি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি বিশ্বের জন্য ভালো একটি ফল বয়ে আনবে।’

তার ধারণা, এই যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

তবে যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমর্থকদের মধ্যেই মতভেদ দেখা দিয়েছে। অনেকেই নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সমালোচকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

রক্ষণশীল ধারার উপস্থাপক মেগিন কেলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা আবারও একই কাজ করছি—এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না।’

অন্যদিকে সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেইলর গ্রিন অভিযোগ করেন, বিদেশে যুদ্ধ না করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, প্রশাসন তা ভঙ্গ করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতির পক্ষে ভোট দিয়েছি। এর মানে আগে আমেরিকার মানুষ।’

এদিকে এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। প্রায় ১ হাজার ৫৯১ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর করা ওই জরিপে ৫৬ শতাংশ মানুষ সংঘাতের বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের জনমত জরিপগুলোতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে—এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় নয়। অনেকের মতে, প্রাণহানি ও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকির কারণে এমন যুদ্ধ বহন করা দেশের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।