https://www.somoyerdarpan.com/

3870

international

লিমন, বৃষ্টির বন্ধুদের হৃদয়ে ক্ষরণ হচ্ছে

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:২২

ছবি:সংগৃহীত

হৃদয়ে ক্ষরণ হচ্ছে ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থীর বন্ধুদের। তারা এই হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। এর মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও। তারা বলেছেন, প্রবাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা পরিবার হিসেবে একসঙ্গেই থাকেন। তাদের একজন আবির আল হাসিব সৌরভ বলেন, আপনাদের বুঝতে হবে, আমরা বাংলাদেশিরা এখানে পরিবারের মতো থাকি। আমরা একসঙ্গে খাই, ঘুরি, একসঙ্গে থাকি। মঙ্গলবার ফ্লোরিডার টাম্পা শহরে আদালতে জড়ো হন তারা। পিএইচডি করতে এই শহরের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় যোগ দিয়েছিলেন জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি। সম্প্রতি তারা নিখোঁজ হন। পরে লিমনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহকে হত্যা মামলায় জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।

বাংলাদেশি ওই দুই শিক্ষার্থীর পরিবার বাংলাদেশে থাকায়, সহপাঠী ও বন্ধুরাই আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব করেন মঙ্গলবার। তারা আদালতে গিয়ে বিচার প্রক্রিয়া নিজের চোখে দেখতে এবং তাদের সম্প্রদায়ের অন্যদের জানাতে চান। তাদের একজন সালমান সাদিক শুভ বলেন, আমরা জানতে চাই আমাদের বন্ধুদের কী হয়েছে। আমরা নিজেদের দায়িত্ব মনে করি। সবকিছু কাছ থেকে দেখে অন্যদের জানাতে চাই।। রিফাতুল ইসলাম বলেন, ৮ হাজার মাইল দূরে এসে আমরা একে অপরের সঙ্গে পরিবারের মতো। কিন্তু যেটা ঘটেছে, সেটা মেনে নেয়া যায় না। আমাদের নিরাপদ জায়গা- আমাদের বাসা। আমাদের ঘরেই তাদের হত্যা করা হয়েছে। এর (নিন্দা জানানোর) কোনো ভাষা নেই।

স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ বলেন, এত সংখ্যক বন্ধুর উপস্থিতি তিনি আশা করেননি। তিনি বলেন, তারা যেভাবে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছে, তা সত্যিই শক্তিশালী। হিলসবরো কাউন্টির বিচারক জে. লোগান মারফি নির্দেশ দেন, অভিযুক্ত যেন কোনো সাক্ষী বা ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না করে। এদিন আবুঘারবিয়েহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার আইনজীবী জেনিফার স্প্র্যাডলি তার উপস্থিতি মওকুফ করেন এবং প্রি-ট্রায়াল আটক মেনে নেন। তার বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যা ছাড়াও আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অন্যান্য অভিযোগে জামিন নির্ধারণ করা হলেও হত্যার অভিযোগে তিনি জামিন ছাড়াই আটক থাকবেন। প্রসিকিউটররা জানান, মামলাটি ৭ই মে গ্র্যান্ড জুরিতে তোলা হবে। দোষী প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে তার।

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা নিহত দুই শিক্ষার্থীর স্মরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, মরণোত্তর ডিগ্রি প্রদান এবং বার্ষিক স্মরণ অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে। লিমনের সুপারভাইজার ও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গো-ফান্ডমি’তে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। চালু হওয়ার পর থেকেই ৮০ হাজার ডলারের বেশি সংগ্রহ হয়েছে। আবির আল হাসিব সৌরভ বলেন, এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ শুরু করেছি। তবে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটাই- ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।