https://www.somoyerdarpan.com/

3753

international

সংঘাত কমাতে সংলাপে বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে, ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০৬

ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা ইসলামাবাদে হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে রাওয়ালপিন্ডিতে কঠোর নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, রাওয়ালপিন্ডি পুলিশের ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা ও সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। শহরের প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলোতে ৬ শতাধিক বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। মহাসড়কগুলোতেও অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ৪০০ এলিট কমান্ডো, ১০০ স্নাইপার, পাঞ্জাব হাইওয়ে প্যাট্রোলের ৪,০০০ সদস্য, ডলফিন ফোর্সের ২০০ সুসজ্জিত সদস্য শহরে মোতায়েন রয়েছেন। যাতে বিদেশি প্রতিনিধিদলের আগমনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।

সূত্র জানায়, ১৮ এপ্রিল মধ্যরাত থেকেই এই নিরাপত্তা মোতায়েন শুরু হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিরা চাকলালার নূর খান এয়ারবেসে অবতরণ করে ইসলামাবাদে যাবেন। রবিবার মধ্যরাত থেকে প্রথম শিফটে ৩,৬০০ পুলিশ সদস্য এবং দ্বিতীয় শিফটে আরও ৩,৫০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নেয়া স্নাইপাররা নিচে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবে এবং ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সমন্বয় করবে।

চোহান চক থেকে কোরাল চক পর্যন্ত সব সংযোগ সড়ক ও গলি বন্ধ রাখা হবে। স্পেশাল ব্রাঞ্চ ওই এলাকায় তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান চালাবে। শনিবার সিটি পুলিশ অফিসার (সিপিও) সৈয়দ খালিদ মাহমুদ হামদানির নির্দেশে উচ্চ সতর্কতা জারি করে একটি নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। পুলিশ লাইনস সদর দপ্তরে তার সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন জেলার কর্মকর্তারাও অংশ নেন। কুইক রেসপন্স ইউনিট টহলে রয়েছে। শহরজুড়ে কঠোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নাগরিকদের সুবিধার জন্য বিকল্প সড়ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অগ্রবর্তী প্রতিনিধি দলের মধ্যে নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও থাকবেন। তারা রোববার ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাতে আসন্ন শান্তি আলোচনার জন্য নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেয়া যায়। তবে এখনো আলোচনার নির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই দলগুলো স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ভিভিআইপি পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। এদিকে রাজধানীর পুলিশ ও প্রশাসন ছাত্রাবাস, হোটেল, গেস্টহাউসসহ বিভিন্ন আবাসনের ব্যবস্থাপনাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশ না মানলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। উচ্চ নিরাপত্তা এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত কিছু মাদ্রাসা বন্ধ রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল ইসলামাবাদে একটি তাবলিগি ইজতেমা হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনা যদি ওই সময়ের কাছাকাছি হয়, তাহলে আয়োজকদের তারিখ পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হতে পারে। এছাড়া রাজধানীর রেড জোনের সব প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু মার্গালা রোড দিয়ে সরকারি যানবাহন চলাচল করতে পারছে। শান্তি আলোচনার সময় রাজধানীতে স্থানীয় ছুটি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানা গেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে কনটেইনার সরবরাহকারী ব্যবসায়ীদের প্রস্তুত থাকতে বলেছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত সড়ক অবরোধ করা যায়।

নিরাপত্তার জন্য রাজধানী পুলিশের প্রায় ৭,০০০ সদস্য, পাঞ্জাব পুলিশের ৪,০০০ সদস্য এবং ৯০০ ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি সদস্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে আরও সদস্য আনা হবে। এছাড়া ইসলামাবাদের আইজিপি কার্যালয় সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে, দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তারা যেন পরিচয়পত্র বহন করেন এবং তা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করেন।